পঞ্চগড়: পঞ্চগড়-২ আসনের সংসদ সদস্য ও পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেছেন, আমাদের দল ক্ষমতায় আসছে জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে। তাই বলে যেসব জনগণ ইলেকশনে আমাদের ভোট দেয়নি, তারা কিন্তু আমাদের বাইরের না, আমরা সবারই প্রতিনিধি।
বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) রাতে পঞ্চগড় সার্কিট হাউজ হল কক্ষে জেলার সার্বিক আইন শৃঙ্খলা, পবিত্র রমজানে বাজার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং নিরবিচ্ছন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিতকরণ বিষয়ক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, সবার ভোট নিয়ে আমরা সরকার গঠন করেছি। এ ক্ষেত্রে যদি আমাদের দলের কোনো কর্মী বা নেতা দলের নাম ভাঙিয়ে কোন অপকর্মে সম্পৃক্ত হয়, সেক্ষেত্রে আমি কোনো দায় দায়িত্ব বহন করব না। আমাদের প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেছেন, কোনো ব্যক্তির দ্বারা আমার দলের যদি ইমেজ ক্ষুণ্ন হয়, তার মত লোক আমাদের দরকার নাই।
তিনি বলেন, সবার সহযোগিতা নিয়ে আমরা উন্নয়ন কার্যক্রম চালিয়ে নিতে চাই। যারা নির্বাচনে হেরে গেছেন তাদেরকেও সঙ্গে নিয়ে একটি মহিমান্বিত বাংলাদেশ গড়তে চাই। সেই দৃষ্টান্ত রেখেই প্রধানমন্ত্রী জামায়াতের আমির, এনসিপির সভাপতি এবং চরমোনাই পীরের বাসায় গিয়েছেন এবং সবার সহযোগিতা চেয়েছেন। আমিও অন্যান্য দলের যারা আছেন- প্রত্যেকের সহযোগিতা চাচ্ছি।
তিনি স্থানীয় প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়ে বলেন, অপরাধী যে দলেরই হোক, তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে।
মাদক সমস্যার সমাধানে মন্ত্রী কেবল খুচরা বিক্রেতা নয়, বরং মাদকের উৎস বা সোর্স বন্ধের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, মাদক যেখান থেকে উৎপন্ন হয় বা যে রুট দিয়ে প্রবেশ করে, সেই জায়গাগুলো চিহ্নিত করতে হবে দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও ও পঞ্চগড়ের সীমান্তবর্তী অপরাধপ্রবণ জোনগুলোতে বিশেষ নজরদারি বাড়াতে হবে। মাদক ব্যবসায়ীরা যাতে আইনি ফাঁকফোকর দিয়ে দ্রুত জামিন না পায়, সে জন্য পিপি ও জিপিদের সঙ্গে সমন্বয় করে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নিতে হবে।
আসন্ন রমজান ও ঈদুল ফিতর উপলক্ষ্যে ঘরমুখো মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার তাগিদ দিয়ে মন্ত্রী বলেন, রমজানে আইন-শৃঙ্খলার অবনতি ঘটানোর কোনো সুযোগ দেওয়া হবে না। চুরি, ছিনতাই ও মহাসড়কে চাঁদাবাজি রোধে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণের নির্দেশ দেন তিনি।
নদী খনন উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে এলাকার উন্নয়ন নিয়ে মন্ত্রী জানান, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীনে বর্তমানে পঞ্চগড়ে নদী ও খাল খননের ব্যাপক কাজ চলছে। এরই মধ্যেই প্রায় ২০০ কিলোমিটার নদী ও জলাশয় খননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামী এপ্রিল-মে মাস পর্যন্ত এই খনন কাজ চলবে, যা এই অঞ্চলের সেচ ও পানির স্তর ধরে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
ফরহাদ হোসেন আজাদ আরও বলেন, আমাদের শ্লোগান একটাই- ‘করবো কাজ, গড়বো দেশ; সবার আগে বাংলাদেশ’। প্রধানমন্ত্রী আমাকে যে দায়িত্ব দিয়েছেন সে দায়িত্ব থেকে সততা ও নিষ্ঠা দিয়ে এবং দুর্নীতির গলা চিপে ধরে কাজ করতে চাই। দলমত নির্বিশেষে আগামী দিনে আমরা পৃথিবীকে দেখাতে চাই সমান সুযোগ পেলে আমরা এগিয়ে যেতে পারি।
জেলা প্রশাসক কাজী মো. সায়েমুজ্জামানের সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন- পুলিশ সুপার রবিউল ইসলাম, সিভিল সার্জন ডা. মিজানুর রহমান, পঞ্চগড় ১৮ বিজি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্ণেল আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ কায়েস, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক জহিরুল ইসলাম কাচ্চু, পঞ্চগড় আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) আদম সুফিসহ অন্যান্যরা।