পঞ্চগড়: উত্তরের জেলা পঞ্চগড়ে এক সপ্তাহের বেশি সময় তাপমাত্রা কিছুটা বাড়তি থাকার পর বছরের শুরুতেই হঠাৎ করে তা কমে গেছে। ফলে জেলায় আবারও মৃদু শৈত্যপ্রবাহ শুরু হয়েছে, বেড়েছে শীতের দাপট।
বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) সকাল ৯টায় তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৯ দশমিক ০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময় বাতাসে আর্দ্রতা ছিল ৯৪ শতাংশ এবং বাতাসের গতি ছিল ঘণ্টায় ৮ থেকে ১০ কিলোমিটার, যা শীতের অনুভূতিকে আরও বাড়িয়ে দেয়। আগের দিন জেলার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ২২ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
সকালে জেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, হালকা কুয়াশা কাটিয়ে সূর্যের দেখা মিলেছে। ঝলমলে রোদে জেলার প্রকৃতি উজ্জ্বল হয়ে ওঠে। রোদ ওঠার সঙ্গে সঙ্গে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে শুরু করে জনজীবন এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের কর্মচাঞ্চল্যও বাড়তে দেখা যায়।
এদিকে তাপমাত্রা কমে যাওয়ায় পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালসহ জেলার বিভিন্ন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে শীতজনিত রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। সর্দি-কাশি, ঠাণ্ডাজনিত জ্বর, নিউমোনিয়া ও শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত রোগীরাই বেশি আসছেন। হাসপাতাল সূত্র জানায়, গত দুই দিনে রোগীর সংখ্যা ২০ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে, যাদের বেশিরভাগই শিশু ও প্রবীণ।
পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. মাহবুব আলম জানান, তাপমাত্রা দ্রুত কমে যাওয়ার ফলে নিউমোনিয়া, অ্যাজমা, শ্বাসকষ্ট ও সর্দি-জ্বরসহ বিভিন্ন ঠাণ্ডাজনিত রোগ বাড়ছে। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্করা বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন। তিনি সবাইকে গরম কাপড় ব্যবহার, সকাল ও সন্ধ্যায় অপ্রয়োজনে বাইরে কম বের হওয়া এবং গরম পানি পান করার পরামর্শ দেন।
তেঁতুলিয়া আবহাওয়া অফিস জানায়, গত এক সপ্তাহে পঞ্চগড়ের তাপমাত্রায় উল্লেখযোগ্য ওঠানামা লক্ষ্য করা গেছে। বুধবার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১২ দশমিক ৪, মঙ্গলবার ১২ দশমিক ২, সোমবার ১২ দশমিক ০ এবং রবিবার ১৩ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিতেন্দ্রনাথ রায় বলেন, ‘গত কয়েক দিন ধরে জেলার তাপমাত্রা ওঠানামা করছে। আজ তেঁতুলিয়ায় সর্বনিম্ন ৯ দশমিক ০ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড হয়েছে, যা মৃদু শৈত্যপ্রবাহের আওতায় পড়েছে।’