Tuesday 07 Apr 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

কক্সবাজারের ১,৬৯৮ জন কৃষক পাচ্ছেন ‘কৃষক কার্ড’

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
৭ এপ্রিল ২০২৬ ১৯:৪০

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, যিনি কৃষক কার্ড প্রদান কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন।

কক্সবাজার: কৃষি খাতে ভর্তুকি, ঋণ ও প্রণোদনা সহজে পৌঁছে দিতে ‘কৃষক কার্ড’ চালু করছে সরকার। এর অংশ হিসেবে পরীক্ষামূলকভাবে কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নের একটি ব্লকে পাইলট প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এ ব্লকে প্রথম পর্যায়ে ১ হাজার ৬৯৮ জন কৃষক-কৃষাণী এই কার্ড পাবেন।

আগামী ১৪ এপ্রিল আনুষ্ঠানিকভাবে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ওইদিন নিজ নিজ জেলায় মন্ত্রীরা উপস্থিত থেকে কৃষকদের হাতে কার্ড তুলে দেবেন। কক্সবাজারে অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, বাহারছড়ার একটি ব্লকে এই পাইলটিং কার্যক্রম পরিচালিত হবে। তালিকাভুক্ত ১ হাজার ৬৯৮ জন কৃষকের মধ্যে পুরুষ ১ হাজার ৪৬৩ জন এবং নারী ২৩৫ জন। কৃষি খাতভিত্তিক বিভাজনে রয়েছেন শস্য চাষি ১ হাজার ৬৪১ জন, মৎস্য চাষি দুইজন, খামারি ১০ জন এবং লবণ চাষি দুইজন। এ ছাড়া, ভূমিহীন ১২৪ জন এবং প্রান্তিক, ক্ষুদ্র ও মাঝারি মিলিয়ে অধিকাংশ কৃষক এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

কৃষকদের আয়, জমির মালিকানা ও আর্থিক অবস্থার ভিত্তিতে ক্ষুদ্র, ভূমিহীন, প্রান্তিক, মাঝারি ও সচ্ছল এই পাঁচ শ্রেণিতে অন্তর্ভুক্তির কাজও চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর, কক্সবাজার কার্যালয়ের উপপরিচালক বিমল কুমার প্রামাণিক নিশ্চিত করেন, প্রথম পর্যায়ে তিন শ্রেণির কৃষক এই কর্মসূচির আওতায় আসছেন। কার্ডধারীরা প্রতি মাসে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা পাবেন। এ ছাড়া, কার্ডের মাধ্যমে ১০ ধরনের সুবিধা দেওয়া হবে। এর মধ্যে রয়েছে ন্যায্যমূল্যে কৃষি উপকরণ, সরকারি ভর্তুকি ও প্রণোদনা, সহজ শর্তে কৃষিঋণ, সেচসুবিধা, কৃষি বিমা, ন্যায্যমূল্যে কৃষিপণ্য বিক্রির সুযোগ, কৃষি প্রশিক্ষণ এবং আবহাওয়া ও রোগবালাই সংক্রান্ত তথ্য ও পরামর্শ।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কৃষক কার্ড চালুর মাধ্যমে কৃষি ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও আধুনিকায়ন নিশ্চিত করতে চায় সরকার। একইসঙ্গে কৃষকের আয় বৃদ্ধি, উৎপাদন বাড়ানো, চাষাবাদের খরচ কমানো এবং কৃষিপণ্যের বাজারব্যবস্থা উন্নত করাও এই উদ্যোগের লক্ষ্য। কৃষক কার্ড চালু করা ছিল ক্ষমতাসীন দলের নির্বাচনি অঙ্গীকারের একটি। কৃষি খাতে কাঠামোগত পরিবর্তন আনার অংশ হিসেবে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর আগে কৃষকদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফের সিদ্ধান্তও বাস্তবায়ন করেছে সরকার, যার আওতায় প্রায় ১২ লাখ কৃষক উপকৃত হয়েছেন।

সংশ্লিষ্টদের আশা, পাইলট প্রকল্প সফল হলে দেশের অন্যান্য এলাকাতেও দ্রুত সম্প্রসারণ করা হবে। এতে প্রান্তিক কৃষকের কাছে সরকারি সহায়তা পৌঁছানো সহজ হবে এবং কৃষি খাতে একটি সমন্বিত ব্যবস্থাপনা গড়ে উঠবে।

উপপরিচালক বিমল কুমার প্রামাণিক বললেন, ‘১৪ এপ্রিল কর্মসূচির উদ্বোধনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী উপস্থিত থাকবেন বলে জানতে পেরেছি। ওইদিন টেকনাফের বাহারছড়ার একটি ব্লকে ১ হাজার ৬৯৮ জন নারী-পুরুষকে কৃষক কার্ড দেওয়া হবে। পর্যায়ক্রমে জেলার সব কৃষককে এই কর্মসূচির আওতায় আনা হবে।’

কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক এম. এ. মান্নান জানিয়েছেন, উদ্বোধনী অনুষ্ঠানকে ঘিরে সবধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর