চৈত্রের শেষ ভাগ পেরিয়ে গরম ধীরে ধীরে তীব্র আকার ধারণ করে। আবহাওয়ার পূর্বাভাস বলছে এ বছর তাপমাত্রা আরও বাড়তে পারে। তাই এপ্রিল বা গ্রীষ্মের শুরুতেই যারা ভ্রমণের পরিকল্পনা করছেন তাদের জন্য আগে থেকে সঠিক প্রস্তুতি নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। প্রয়োজনীয় কিছু জিনিস সঙ্গে রাখলে ভ্রমণ যেমন আরামদায়ক হবে। তেমনি নানা ধরনের শারীরিক সমস্যাও এড়ানো সম্ভব।
প্রথমেই ত্বকের সুরক্ষার বিষয়টি গুরুত্ব দিতে হবে। পাহাড়, সমুদ্রসৈকত কিংবা খোলা জায়গায় ঘোরাঘুরির সময় সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি থেকে বাঁচতে ভালো মানের সানস্ক্রিন ব্যবহার করা অপরিহার্য। প্রতি দুই থেকে তিন ঘণ্টা পরপর সানস্ক্রিন পুনরায় ব্যবহার করলে ভালো সুরক্ষা পাওয়া যায়। পাশাপাশি একটি মানসম্মত রোদচশমা চোখকে রোদের তীব্রতা ও ধুলাবালি থেকে রক্ষা করে।
পোশাক নির্বাচনের ক্ষেত্রে হালকা, ঢিলেঢালা এবং সুতি কাপড়ই সবচেয়ে উপযোগী। ফুলহাতা পোশাক ত্বককে সরাসরি রোদ থেকে আড়াল করে। একাধিক পোশাক সঙ্গে রাখলে সুবিধা হয়। কারণ গরমে ঘাম বেশি হয় এবং কাপড় দ্রুত নোংরা হয়ে যেতে পারে। দ্রুত শুকায় এমন কাপড় হলে ভ্রমণে আরও সুবিধা পাওয়া যায়।
পায়ের যত্নও সমান গুরুত্বপূর্ণ। গরমে পা ঘামা স্বাভাবিক, তাই সুতি মোজা ব্যবহার করলে আরাম পাওয়া যায়। হাঁটাচলার জন্য আরামদায়ক স্নিকার কিংবা ভালো গ্রিপযুক্ত স্যান্ডেল বেছে নেওয়া উচিত যাতে পিছলে যাওয়ার ঝুঁকি কম থাকে এবং দীর্ঘ সময় হাঁটলেও পায়ে ব্যথা না হয়।
ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতার জিনিসপত্রও ভ্রমণের অপরিহার্য অংশ। গামছা বা তোয়ালে, ফেসওয়াশ, সাবান, ওয়েট টিস্যু, টিস্যু পেপার ও বডি স্প্রে সঙ্গে রাখলে সতেজ থাকা সহজ হয়। গরমে ঘাম ও ধুলাবালির কারণে ত্বকে অস্বস্তি তৈরি হতে পারে। তাই এগুলো খুবই কাজে দেয়। এছাড়া পোকামাকড়ের উপদ্রব থেকে বাঁচতে মশা বা কীটনাশক রিপেলেন্ট সঙ্গে রাখা উচিত। বিশেষ করে পাহাড়ি বা বনাঞ্চলে ভ্রমণের ক্ষেত্রে।
তীব্র রোদ থেকে সুরক্ষা পেতে একটি ছাতা বা ক্যাপ রাখা যেতে পারে। ছাতা শুধু রোদ নয়, হঠাৎ বৃষ্টিতেও কাজে লাগে। শিশুদের সঙ্গে ভ্রমণে গেলে এটি আরও বেশি প্রয়োজনীয় হয়ে ওঠে।
গরমে সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হলো পানিশূন্যতা। তাই সবসময় পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি সঙ্গে রাখা জরুরি। পাশাপাশি ডাবের পানি, ফলের রস বা লবণ-চিনির পানি (ওআরএস) শরীরের পানির ভারসাম্য বজায় রাখতে সহায়তা করে। তরমুজ, শসা, কমলা ইত্যাদি পানিসমৃদ্ধ ফল খেলে শরীর ঠান্ডা থাকে।
এ ছাড়া ছোট একটি ফার্স্ট এইড কিট রাখা বুদ্ধিমানের কাজ। এতে ব্যান্ডেজ, অ্যান্টিসেপ্টিক, ব্যথানাশক ওষুধ, প্রয়োজনীয় ব্যক্তিগত ওষুধ রাখা যেতে পারে। হিটস্ট্রোক বা অতিরিক্ত ক্লান্তি এড়াতে নিয়মিত বিশ্রাম নেওয়া এবং দুপুরের প্রচণ্ড রোদ এড়িয়ে চলাও গুরুত্বপূর্ণ।
সঠিক পরিকল্পনা ও প্রস্তুতি থাকলে গরমের ভ্রমণও হতে পারে আনন্দময় ও ঝামেলামুক্ত। একটু সচেতনতা আপনাকে দেবে স্বস্তিদায়ক ও নিরাপদ ভ্রমণের অভিজ্ঞতা।