চৈত্রের তীব্র গরমে শুধু জনজীবনই নয়। আমাদের ত্বকও পড়ে বড় ধরনের চাপে। অতিরিক্ত ঘাম, ধুলাবালি এবং রোদের প্রখরতা ত্বককে করে তোলে ক্লান্ত, মলিন ও প্রাণহীন। বিশেষ করে তৈলাক্ত ত্বকে ব্রণের সমস্যা বাড়ে আর শুষ্ক ত্বক হয়ে পড়ে আরও রুক্ষ। তাই ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে ত্বকের যত্নের ধরণেও পরিবর্তন আনা জরুরি।
গ্রীষ্মকালে ত্বক ভালো রাখতে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অনুসরণ করা যেতে পারে…
প্রথমত, ত্বক পরিষ্কার রাখা অত্যন্ত জরুরি। গরমে ঘাম ও অতিরিক্ত তেল জমে লোমকূপ বন্ধ হয়ে যেতে পারে। তাই দিনে অন্তত দুইবার মৃদু জেল বা ফোম-বেসড ফেসওয়াশ দিয়ে মুখ পরিষ্কার করা উচিত। এতে ত্বকের প্রাকৃতিক আর্দ্রতা বজায় রেখেই ময়লা দূর হয়।
দ্বিতীয়ত, ভারী ময়শ্চারাইজারের পরিবর্তে হালকা, ওয়াটার বেসড বা জেল বেসড ময়শ্চারাইজার ব্যবহার করা ভালো। এটি ত্বকে প্রয়োজনীয় আর্দ্রতা বজায় রাখে। কিন্তু অতিরিক্ত তেলতেলে ভাব তৈরি করে না।
গরমকালে সানস্ক্রিন ব্যবহার করা অপরিহার্য। বাইরে যাওয়ার অন্তত ২০ মিনিট আগে উচ্চ এসপিএফযুক্ত সানস্ক্রিন ব্যবহার করা উচিত এবং প্রতি কয়েক ঘণ্টা পরপর তা পুনরায় প্রয়োগ করা দরকার। পাশাপাশি ছাতা বা টুপি ব্যবহার করে সরাসরি রোদ থেকেও ত্বককে সুরক্ষা দেওয়া যায়।
ত্বকের উজ্জ্বলতা ধরে রাখতে অ্যান্টি অক্সিডেন্ট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ভিটামিন ‘সি’সমৃদ্ধ সিরাম ত্বককে দূষণ ও সূর্যের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রক্ষা করে। এছাড়া সপ্তাহে এক বা দুইবার হালকা স্ক্রাব ব্যবহার করলে মৃত কোষ দূর হয়ে ত্বক সতেজ থাকে।
রাতে ত্বকের যত্ন নেওয়াও সমান গুরুত্বপূর্ণ। সারাদিনের ধুলো, ঘাম ও সানস্ক্রিন পরিষ্কার করে হালকা সিরাম বা জেল ব্যবহার করলে ত্বক রাতে নিজেকে পুনরুদ্ধার করতে পারে।
তবে কিছু সাধারণ ভুল এড়িয়ে চলা জরুরি। যেমন বারবার মুখ ধোয়া ত্বককে আরও শুষ্ক করে তুলতে পারে, ময়শ্চারাইজার ব্যবহার না করা ত্বকের ক্ষতি করে আর শুধু মেকআপের সানস্ক্রিনের ওপর নির্ভর করা যথেষ্ট নয়।
সবশেষে, ত্বকের যত্ন শুধু বাইরে থেকে নয় ভেতর থেকেও নিতে হয়। পর্যাপ্ত পানি পান, স্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণ এবং দুপুরের তীব্র রোদ এড়িয়ে চলা এই অভ্যাসগুলো ত্বককে সুস্থ ও প্রাণবন্ত রাখতে সাহায্য করে।
সামান্য সচেতনতা আর নিয়মিত যত্নেই গরমের মধ্যেও ত্বক থাকতে পারে সতেজ ও উজ্জ্বল।