Monday 23 Feb 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

রমজানে মানসিক স্বাস্থ্য

ফারহানা নীলা স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৮:২৩

রমজান শুধু খাদ্য ও পানীয় থেকে বিরত থাকার মাস নয়; এটি আত্মসংযম, আত্মবিশ্লেষণ ও আত্মশুদ্ধির এক বিশেষ সময়। কিন্তু এই আধ্যাত্মিক অনুশীলনের ভেতর দিয়েই অনেকের জীবনে দেখা দেয় মানসিক চাপ, ক্লান্তি, বিরক্তি কিংবা উৎপাদনশীলতার ওঠানামা। ফলে রমজান হয়ে ওঠে একদিকে আত্মিক প্রশান্তির, অন্যদিকে মানসিক চ্যালেঞ্জেরও মাস।

রোজা ও আত্মনিয়ন্ত্রণের মনস্তত্ত্ব

রোজা আমাদের দৈনন্দিন অভ্যাসে এক ধরনের সচেতন বিরতি আনে। ক্ষুধা, তৃষ্ণা ও শারীরিক চাহিদা নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে মানুষ নিজের আবেগ ও আচরণের ওপরও নিয়ন্ত্রণ বাড়ানোর চেষ্টা করে। মনোবিজ্ঞানীরা বলেন, আত্মনিয়ন্ত্রণের এই অনুশীলন দীর্ঘমেয়াদে ধৈর্য ও সহনশীলতা বাড়াতে সাহায্য করতে পারে। অনেকেই জানান, রমজানে তারা বেশি আত্মসমালোচনামূলক হন, ভুল-ত্রুটি নিয়ে ভাবেন, সম্পর্ক মেরামতের চেষ্টা করেন।

বিজ্ঞাপন

ক্লান্তি, রাগ ও খিটখিটে মেজাজ

তবে বাস্তবতা হলো; সাহরি ও ইফতারের মাঝের দীর্ঘ সময়, বিশেষ করে গরমের দিনে, শরীর ও মস্তিষ্কে প্রভাব ফেলে। ঘুমের সময়সূচি বদলে যায়, ক্যাফেইন কমে যায়, রক্তে শর্করার মাত্রা ওঠানামা করে। এর ফলে অনেকের মধ্যে দেখা দেয় মাথাব্যথা, মনোযোগের ঘাটতি, বিরক্তিভাব কিংবা অস্থিরতা। অফিসে বা ঘরে ছোটখাটো বিষয়েও রাগ বেড়ে যেতে পারে।

বিশেষ করে কর্মজীবী মানুষদের জন্য চ্যালেঞ্জ আরও বেশি।দিনের কাজের চাপ, যানজট, সময়মতো ইফতার প্রস্তুতির দুশ্চিন্তা; সব মিলিয়ে মানসিক চাপ তৈরি হয়। অনেক নারী জানান, ইফতারের আয়োজন ও পারিবারিক দায়িত্বের চাপ তাদের জন্য রোজাকে আরও ক্লান্তিকর করে তোলে।

উৎপাদনশীলতার নতুন ছন্দ

রমজানে কাজের গতি অনেক সময় বদলে যায়। কেউ কেউ সকালবেলায় বেশি কর্মক্ষম থাকেন, আবার কেউ ইফতারের পর রাত জেগে কাজ করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। এই সময়টাকে নতুন ছন্দে সাজানোই হতে পারে সমাধান। অপ্রয়োজনীয় কাজ কমিয়ে অগ্রাধিকারভিত্তিক কাজ করা, ছোট বিরতি নেওয়া; এসব কৌশল মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে।

আধ্যাত্মিকতা ও মানসিক প্রশান্তি

রমজানের সবচেয়ে শক্তিশালী দিক হলো আধ্যাত্মিক অনুশীলন। নামাজ, কোরআন তিলাওয়াত, দোয়া; এসব নিয়মিত চর্চা অনেকের মনে শান্তি এনে দেয়। ধ্যানের মতো মনোসংযোগমূলক ইবাদত উদ্বেগ কমাতে সহায়ক হতে পারে। সামাজিক সংযোগও গুরুত্বপূর্ণ। একসঙ্গে ইফতার, মসজিদে তারাবি, দান-সদকা, এসব মানুষকে এক ধরনের সামাজিক সমর্থন দেয়, যা মানসিক সুস্থতার জন্য অপরিহার্য।

কীভাবে মানসিক ভারসাম্য রাখা যায়

পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করা,
সাহরি ও ইফতারে সুষম খাবার গ্রহণ,
ক্যাফেইন কমানোর প্রস্তুতি আগে থেকে নেওয়া,
কাজের সময়সূচি বাস্তবসম্মতভাবে সাজানো,
রাগ বা অস্থিরতা এলে সচেতন বিরতি নেওয়া,
নিজের অনুভূতি নিয়ে পরিবারের সঙ্গে কথা বলা।

রমজান: আত্মসমালোচনা থেকে আত্মউন্নয়ন

রমজান এক ধরনের মনস্তাত্ত্বিক আয়না। এই মাসে আমরা নিজেদের দুর্বলতা, সীমাবদ্ধতা ও শক্তিকে নতুনভাবে দেখি। মানসিক চাপ থাকলেও এটি আত্মউন্নয়নের সুযোগ এনে দেয়। সংযম, ধৈর্য ও সহমর্মিতার অনুশীলন যদি সচেতনভাবে করা যায়, তবে রমজান শুধু ধর্মীয় আচার নয়, এটি হয়ে উঠতে পারে মানসিক পরিশুদ্ধিরও এক গভীর যাত্রা। রমজানের এই যাত্রায় তাই প্রয়োজন শুধু না-খাওয়ার সংযম নয়, বরং নিজের মনকেও যত্নে রাখার সচেতনতা। কারণ আত্মিক শান্তির পথ শুরু হয় মানসিক সুস্থতা থেকেই।

সারাবাংলা/এফএন/এএসজি
বিজ্ঞাপন

ইসলামী ব্যাংকের বোর্ড সভা অনুষ্ঠিত
২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৯:২৮

আরো

ফারহানা নীলা - আরো পড়ুন
সম্পর্কিত খবর