ব্রাসেলসের রাজকীয় প্রাসাদের ঠিক পাশেই অবস্থিত প্লেস রয়্যাল চত্বরটি পর্যটকদের জন্য এক অনন্য আকর্ষণ। নীল আকাশের নিচে ধবধবে সাদা নিও-ক্লাসিক্যাল স্থাপত্যের সামনে হাতে পতাকা নিয়ে ঘোড়ায় চড়া এক বীরের মূর্তি দাঁড়িয়ে আছে। তিনি হলেন গডফ্রে অফ বুইলন। যিনি মধ্যযুগের ইতিহাসে এক অত্যন্ত প্রভাবশালী নাম।
গডফ্রে অফ বুইলন কে ছিলেন?
গডফ্রে অফ বুইলন (১০৬০–১১০০ খ্রিস্টাব্দ) ছিলেন প্রথম ক্রুসেডের অন্যতম প্রধান নেতা। তিনি ছিলেন বুইলনের ডিউক এবং ইতিহাসের পাতায় তাকে জেরুজালেম রাজ্যের প্রথম শাসক হিসেবে গণ্য করা হয়। ১০৯৯ সালে যখন ক্রুসেডাররা জেরুজালেম দখল করে, তখন তাকে রাজা হওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হলেও তিনি বিনম্রভাবে তা প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি বলেছিলেন, ‘যে শহরে যিশু খ্রিস্ট কাঁটার মুকুট পরেছিলেন, সেখানে আমি সোনার মুকুট পরতে পারি না।’ পরিবর্তে তিনি ‘পবিত্র সমাধির রক্ষক’ পদবি গ্রহণ করেন।
স্থাপত্য ও ভাস্কর্যের শৈলী
চত্বরের মাঝখানে অবস্থিত এই ব্রোঞ্জ ভাস্কর্যটি ১৮৪৮ সালে ভাস্কর ইউজিন সাইমোনিস (Eugène Simonis) তৈরি করেন। যেখানে গডফ্রে একটি ঘোড়ায় চড়ে আছেন এবং তার হাতে বীরত্বের প্রতীক হিসেবে একটি বড় পতাকা উড়ছে। মূর্তির ভঙ্গিটি এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যেন তিনি যুদ্ধের ময়দানে তার অনুসারীদের আহ্বান জানাচ্ছেন।

ছবি: লেখক
পেছনের ঐতিহাসিক চার্চ: সেন্ট জেমস অন কুডেনবার্গ
ভাস্কর্যটির ঠিক পেছনে যে মন্দির সদৃশ বিশাল ভবনটি দেখা যাচ্ছে, সেটি হলো ‘চার্চ অফ সেন্ট জেমস অন কুডেনবার্গ’। এটি রোমান গ্রিক স্থাপত্যের অনুকরণে তৈরি। ভবনের সম্মুখভাগে বিশাল বিশাল করিন্থিয়ান কলাম (Columns) এবং ওপরে একটি ত্রিকোণাকৃতি অংশ (Pediment) রয়েছে, যার ভেতরে একটি সুন্দর ফ্রেস্কো বা রঙিন চিত্র রয়েছে। এই চার্চটি বেলজিয়ামের রাজকীয় পরিবারের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বেলজিয়ামের রাজারা প্রায়ই এখানে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে অংশ নেন। এমনকি ১৮৩১ সালে বেলজিয়ামের প্রথম রাজা প্রথম লিওপোল্ড এই চার্চের সামনেই তার শপথ গ্রহণ করেছিলেন।
পর্যটন ও বর্তমান গুরুত্ব
প্লেস রয়্যাল এবং গডফ্রের এই ভাস্কর্যটি ব্রাসেলসের ইতিহাসের একটি কেন্দ্রবিন্দু। এর চারপাশেই রয়েছে বেলজিয়ামের প্রধান সব জাদুঘর যেমন, ম্যাগরিট মিউজিয়াম এবং রয়্যাল মিউজিয়াম অফ ফাইন আর্টস। চত্বরের সাজানো গোছানো পরিবেশ এবং ঐতিহ্যের ছোঁয়া একে ছবির মতো সুন্দর করে তুলেছে।
গডফ্রে অফ বুইলনের এই ভাস্কর্যটি কেবল একজন যোদ্ধার স্মৃতি নয়, বরং এটি বেলজিয়ামের মানুষের কাছে সাহস, ত্যাগ এবং বীরত্বের এক চিরস্থায়ী প্রতীক।