আধুনিক স্মার্টফোনের প্রাণকেন্দ্র হলো এর টাচ স্ক্রিন। বাটন বা কিপ্যাডের যুগ পেরিয়ে আজ আমরা স্ক্রিনে আঙুলের সামান্য ছোঁয়াতেই জটিল সব কাজ সারছি। কিন্তু কখনো কি ভেবে দেখেছেন, নিছক এক টুকরো কাঁচের ওপর আঙুল রাখলে ফোন কীভাবে বুঝতে পারে আপনি ঠিক কোথায় টাচ করেছেন? এই জাদুকরী পর্দাটি আসলে কী দিয়ে তৈরি এবং এটি কীভাবে কাজ করে, আজকের প্রতিবেদনে থাকছে তারই বিস্তারিত।
টাচ স্ক্রিন কী দিয়ে তৈরি?
একটি স্মার্টফোনের টাচ স্ক্রিন মূলত তিনটি প্রধান স্তরের সমন্বয়ে গঠিত:
উপরের স্তর (Top Layer): এটি সাধারণত অত্যন্ত শক্ত এবং স্বচ্ছ কাঁচ দিয়ে তৈরি। প্রিমিয়াম ফোনগুলোতে সুরক্ষার জন্য ‘গরিলা গ্লাস’ ব্যবহার করা হয়, যা সহজে স্ক্র্যাচ বা দাগ পড়তে দেয় না।
সেন্সর স্তর (Conductive Layer): এটিই আসল জাদুর স্তর। কাঁচের ঠিক নিচেই থাকে ইন্ডিয়াম টিন অক্সাইড (ITO) নামক একটি অত্যন্ত স্বচ্ছ এবং বিদ্যুৎ পরিবাহী পদার্থের প্রলেপ।
ডিসপ্লে স্তর (Display Layer): সবার নিচে থাকে এলসিডি (LCD) বা অ্যামোলেড (AMOLED) প্যানেল, যা আমরা ছবি বা টেক্সট হিসেবে দেখি।
টাচ স্ক্রিন যেভাবে কাজ করে (Capacitive Technology)
বর্তমানে প্রায় সব স্মার্টফোনেই ‘ক্যাপাসিটিভ টাচ স্ক্রিন’ প্রযুক্তি ব্যবহৃত হয়। এর কার্যপদ্ধতি বিজ্ঞানের এক চমৎকার প্রয়োগ:
স্থির বিদ্যুৎ প্রবাহ: ফোনের স্ক্রিনে থাকা ওই স্বচ্ছ পরিবাহী স্তরে (ITO) সবসময় একটি নির্দিষ্ট মাত্রার বৈদ্যুতিক চার্জ বা স্থির বিদ্যুৎ প্রবাহিত হয়।
পরিবাহী হিসেবে মানবদেহ: মজার ব্যাপার হলো, আমাদের শরীরের ত্বক বিদ্যুৎ পরিবাহী। যখনই আমরা স্ক্রিনে আঙুল ছোঁয়াই, তখন আমাদের আঙুল ওই নির্দিষ্ট বিন্দু থেকে সামান্য পরিমাণ বৈদ্যুতিক চার্জ শোষণ করে নেয়।
চার্জের পরিবর্তন শনাক্তকরণ: আঙুল ছোঁয়ানোর ফলে স্ক্রিনের ওই নির্দিষ্ট জায়গার ভোল্টেজ বা চার্জে সামান্য পরিবর্তন ঘটে। স্ক্রিনের নিচে থাকা ক্ষুদ্র সেন্সরগুলো চোখের পলকে এই পরিবর্তনের স্থানটি শনাক্ত করে ফেলে।
প্রসেসরের ম্যাজিক: সেন্সর থেকে প্রাপ্ত তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে ফোনের প্রসেসরের কাছে পৌঁছায়। প্রসেসর তখন হিসাব করে দেখে আপনি স্ক্রিনের কোন পিক্সেল বা কোন আইকনের ওপর টাচ করেছেন এবং সেই অনুযায়ী কমান্ডটি কার্যকর করে। এভাবেই একটি অ্যাপ ওপেন হয় বা টাইপিং সম্পন্ন হয়।