আকাশে নতুন চাঁদের আবির্ভাবের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে পবিত্র রমজান মাস। বদলে যেতে শুরু করেছে সময়ের গতি, শহরের কোলাহল ধীরে ধীরে রূপ নিচ্ছে সংযম ও ইবাদতের নীরবতায়। মুসলমানদের জীবনে রমজান শুধু একটি মাস নয়, এটি আত্মশুদ্ধি, আত্মসংযম ও আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের এক অনন্য সুযোগ।
রমজানের রোজা ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের অন্যতম। ঈমান, নামাজ ও যাকাতের পরেই রোজার অবস্থান। পবিত্র কোরআনের সুরা বাকারার ১৮৩ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তায়ালা বলেন— ‘হে ঈমানদারগণ, তোমাদের ওপর রোজা ফরজ করা হয়েছে, যেমন ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর, যেন তোমরা তাকওয়া অর্জন করতে পারো।’ এই আয়াতই প্রমাণ করে, রোজার মূল উদ্দেশ্য কেবল উপবাস নয়; বরং তাকওয়া বা আল্লাহভীতির গুণ অর্জন।
ইসলামী বর্ণনায় রমজানকে বলা হয়েছে তিন ভাগে বিভক্ত এক মহামূল্যবান মাস। এর প্রথম দশ দিন রহমত, মধ্য দশ দিন মাগফিরাত এবং শেষ দশ দিন জাহান্নাম থেকে নাজাতের সময়। এই মাসেই নাজিল হয়েছে মানবজাতির পথনির্দেশিকা পবিত্র কোরআন, যা সত্য ও মিথ্যার পার্থক্য স্পষ্ট করে দিয়েছে।
রমজান মানুষকে শেখায় আত্মসংযমের বাস্তব প্রশিক্ষণ। ক্ষুধা ও তৃষ্ণার মধ্য দিয়ে মানুষ অনুভব করে অসহায় মানুষের কষ্ট। রাগ সংবরণ, মিথ্যা ও অশ্লীলতা থেকে দূরে থাকা, ক্ষমা ও সহমর্মিতা— এসব গুণ রমজানেই সবচেয়ে বেশি অনুশীলিত হয়। হাদিসে এসেছে, এ মাসে একটি নফল ইবাদতের সওয়াব ফরজের সমান এবং একটি ফরজ ইবাদতের সওয়াব বহুগুণে বৃদ্ধি পায়।
ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ বহু ঘটনা এই রমজান মাসের সাক্ষ্য বহন করে। বদরের যুদ্ধ, মক্কা বিজয় এবং কোরআনের প্রথম ওহি— সবই সংঘটিত হয়েছে এই পবিত্র মাসে। এসব ঘটনা প্রমাণ করে, রমজান কেবল ইবাদতের মাস নয়, বরং ইসলামের ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।
রমজান আসে মানুষকে বদলাতে, নিজেকে শুধরাতে এবং অতীতের ভুল ঝরিয়ে নতুন করে শুরু করার সুযোগ দিতে। এর ফজিলত ও গুরুত্ব এত ব্যাপক যে তা বলে শেষ করা যায় না। এই পবিত্র মাস আমাদের মনে করিয়ে দেয়— সংযম, সহানুভূতি ও আল্লাহভীতিই একজন প্রকৃত মুমিনের মূল পরিচয়।