Friday 20 Feb 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

হবিটের বাড়ি থেকে মিডল-আর্থ: আজ জে. আর. আর. টলকিন ডে

ফারহানা নীলা স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
৩ জানুয়ারি ২০২৬ ১৬:২১

৩ জানুয়ারি। ক্যালেন্ডারে দিনটি আলাদা করে দাগ কাটা না থাকলেও, ফ্যান্টাসি সাহিত্যের পাঠকদের কাছে এটি একেবারেই অন্য রকম। কারণ এই দিনেই জন্মেছিলেন জন রোনাল্ড রুয়েল টলকিন— সংক্ষেপে যিনি আমাদের কাছে জে. আর. আর. টলকিন। দ্য হবিট, দ্য লর্ড অব দ্য রিংস আর দ্য সিলমারিলিয়ন–এর স্রষ্টা মানুষটি না থাকলে হয়তো ফ্যান্টাসির জগৎ আজ এতটা সমৃদ্ধ হতো না।

এই দিনটিকে ঘিরেই বিশ্বজুড়ে অনানুষ্ঠানিকভাবে পালিত হয় জে. আর. আর. টলকিন ডে— যেখানে এলফ, হবিট, ডোয়ার্ফ আর মানুষ একসঙ্গে কল্পনার আসরে বসে।

যুদ্ধ থেকে ফ্যান্টাসি: এক অদ্ভুত যাত্রা

টলকিনের জীবন ছিল কেবল কল্পনার নয়, বাস্তবতারও। প্রথম বিশ্বযুদ্ধে তিনি ছিলেন ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর সদস্য। যুদ্ধের ভয়াবহতা, বন্ধু হারানোর বেদনা— এসবই পরে তাঁর লেখায় রূপ নেয় ভিন্ন আকারে। অনেক গবেষক মনে করেন, মিডল– আর্থের অন্ধকার সময়, যুদ্ধ আর ক্ষয়ক্ষতির পেছনে টলকিনের যুদ্ধ–অভিজ্ঞতার ছায়া রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

তবে টলকিনের জাদু এখানেই—তিনি যুদ্ধকে সরাসরি তুলে ধরেননি, বরং রূপক আর কল্পনার মাধ্যমে মানবিক মূল্যবোধ, বন্ধুত্ব, ত্যাগ আর ক্ষমতার বিপদকে গল্পে বুনে দিয়েছেন।

হবিট কেন এত আপন

দ্য হবিট–এর বিলবো ব্যাগিন্স কোনো সুপারহিরো নয়। সে খাটো, খানিকটা অলস, আর শান্ত জীবন ভালোবাসে। তবু পরিস্থিতির চাপে সে বেরিয়ে পড়ে অভিযানে। এই সাধারণ মানুষসুলভ চরিত্রটাই টলকিনকে আলাদা করেছে।

বিলবো বা ফ্রোডোর মধ্যে পাঠক নিজের প্রতিচ্ছবি খুঁজে পান। বড় কোনো শক্তি না থাকলেও সঠিক সিদ্ধান্ত, সাহস আর বন্ধুত্ব দিয়েই যে পৃথিবী বদলানো যায়—এই বার্তাই টলকিন বারবার দিয়েছেন।

ভাষা বানানোর নেশা

টলকিন শুধু গল্প লেখেননি, ভাষাও বানিয়েছেন! এলভিশ ভাষা কুয়েনিয়া ও সিন্ডারিন—এসব কল্পিত ভাষার ব্যাকরণ, শব্দভান্ডার ছিল এতটাই বিস্তারিত যে অনেক ভাষাবিদ আজও বিস্মিত।

আসলে টলকিন ছিলেন পেশায় ভাষাবিদ। তাঁর কাছে গল্প ছিল ভাষার আশ্রয়, আর ভাষা ছিল কল্পনার শিকড়। তাই মিডল–আর্থ কোনো হালকা কল্পনা নয়—এটি এক পূর্ণাঙ্গ সভ্যতা, ইতিহাস ও সংস্কৃতিসম্পন্ন এক জগৎ।

সিনেমা, গেম আর ‘টলকিন কালচার’

পিটার জ্যাকসনের লর্ড অব দ্য রিংস ট্রিলজি টলকিনকে নতুন প্রজন্মের কাছে নতুনভাবে পরিচিত করেছে। সিনেমার পর ভিডিও গেম, টিভি সিরিজ, কমিক—সবখানেই টলকিনের প্রভাব।

৩ জানুয়ারিতে বিশ্বের নানা দেশে পাঠকেরা আয়োজন করেন—
টলকিন ম্যারাথন রিডিং,
প্রিয় চরিত্র সেজে ছবি তোলা,
মিডল–আর্থ থিমড আড্ডা,
কিংবা শুধু প্রিয় কোনো উক্তি শেয়ার করা,
বাংলাদেশেও বইপোকাদের ছোট ছোট আড্ডায় এই দিনটি আলাদা গুরুত্ব পায়।

কেন এখনো প্রাসঙ্গিক টলকিন

একবিংশ শতাব্দীর প্রযুক্তিনির্ভর দুনিয়ায় দাঁড়িয়েও টলকিন প্রাসঙ্গিক কারণ তিনি ক্ষমতার লোভ, পরিবেশ ধ্বংস, যুদ্ধ আর নৈতিকতার প্রশ্ন তুলেছেন। ‘ওয়ান রিং’ আসলে ক্ষমতার প্রতীক—যা সবাইকে দুর্নীতিগ্রস্ত করতে পারে।

টলকিন আমাদের শেখান, পৃথিবী বদলাতে নায়ক হওয়া লাগে না; কখনো কখনো একজন সাধারণ মানুষই যথেষ্ট।

টলকিন ডে পালন করবেন যেভাবে

এই ৩ জানুয়ারিতে খুব বড় আয়োজনের দরকার নেই—
পুরোনো কোনো প্রিয় অংশ আবার পড়ে ফেলুন
বন্ধুকে বলুন, “তুমি আমার স্যামওয়াইজ”
কিংবা মনে মনে বলুন, “Not all those who wander are lost”
টলকিন ডে আসলে স্মরণ করিয়ে দেয়—বাস্তব দুনিয়ার ভিড়েও কল্পনার জন্য একটু জায়গা রাখাই জীবনের সৌন্দর্য।

শেষ কথা

৩ জানুয়ারি শুধু একজন লেখকের জন্মদিন নয়; এটি কল্পনার শক্তিকে উদযাপনের দিন। যে কল্পনা আমাদের বাস্তবকে আরও মানবিক করে তোলে। মিডল–আর্থের পথে হাঁটতে হাঁটতে টলকিন যেন আজও বলে যান—
অন্ধকার যতই গভীর হোক, কোথাও না কোথাও আলো থাকেই।

সারাবাংলা /এফএন/এএসজি
বিজ্ঞাপন

রাজবাড়ীতে ২ টাকায় ইফতার বিতরণ
২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৯:৫৪

রাজবাড়ীতে দুই পক্ষের সংঘর্ষে আহত ৫
২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৯:৪০

চাকরি দিচ্ছে মধুমতি ব্যাংক
২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৯:১২

আরো

ফারহানা নীলা - আরো পড়ুন
সম্পর্কিত খবর