মার্কিন পপ তারকা টেইলর সুইফটের গানের লিরিক্স যে কেবল বিনোদনের খোরাক নয়, বরং উচ্চতর গবেষণার অনন্য অনুষঙ্গ হতে পারে, তা প্রমাণ করে দেখালেন ভিয়েতনামের শিক্ষার্থী হুইন কুয়ং এনগুয়েন। ২২ বছর বয়সী এই মেধাবী তরুণী সুইফটের গানে ব্যবহৃত ‘কনসেপচুয়াল মেটাফোর’ বা ধারণাগত রূপক নিয়ে গবেষণা করে বিশ্বখ্যাত অক্সফোর্ড ও ক্যামব্রিজ উভয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই ভর্তির প্রস্তাব পেয়েছেন। সবচেয়ে চমকপ্রদ তথ্য হলো, অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তার গবেষণার মান ও গভীরতায় এতটাই মুগ্ধ হয়েছে যে, সাধারণ নিয়ম ভেঙে কোনো প্রকার ইন্টারভিউ বা সাক্ষাৎকার ছাড়াই তাকে সরাসরি ভর্তির সুযোগ দিয়েছে। বর্তমানে ইউনিভার্সিটি অব দ্য নাং-এ ইংরেজি ভাষা শিক্ষা বিষয়ে স্নাতক পড়ুয়া এই শিক্ষার্থী দেখিয়েছেন যে, কীভাবে সুইফটের গানে ভালোবাসা, স্মৃতি কিংবা খ্যাতির মতো জটিল অনুভূতিগুলোকে রূপকের মাধ্যমে বিশ্বজনীন করে তোলা হয়।
এনগুয়েনের এই গবেষণাপত্রটি কোনো শিক্ষকের তত্ত্বাবধান ছাড়াই সম্পূর্ণ নিজস্ব উদ্যোগে তৈরি করা, যা ইতোমধ্যে ভিয়েতনামের শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে বিশেষ পুরস্কারও জয় করেছে। তিনি তার গবেষণায় ব্যাখ্যা করেছেন যে, সুইফটের গানে ভালোবাসাকে একটি ‘ভ্রমণ’ বা খ্যাতিকে একটি ‘রাজ্য’ হিসেবে উপস্থাপনের যে ধরন, তা বিভিন্ন সংস্কৃতির মানুষের হৃদয়ে সহজেই জায়গা করে নেয়। ইংরেজি ভাষা শিক্ষাকে আরও প্রাণবন্ত করতে রূপকের ব্যবহার যে কতটা কার্যকর হতে পারে, সেটিই ছিল তার কাজের মূল প্রতিপাদ্য। একাডেমিক ক্ষেত্রে ৪.০০ এর মধ্যে ৩.৯৭ সিজিপিএধারী এই শিক্ষার্থী কেবল পড়াশোনাতেই নয়, বরং সামাজিক কর্মকাণ্ডেও সমানভাবে সক্রিয়। সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের বিনামূল্যে ইংরেজি শেখানো থেকে শুরু করে শিক্ষকদের জন্য শিক্ষামূলক ওয়েবসাইট তৈরির মতো কাজগুলো তার প্রোফাইলকে আরও সমৃদ্ধ করেছে। বর্তমানে স্কলারশিপের ফলাফলের অপেক্ষায় থাকা এনগুয়েন ভবিষ্যতে নিজের দেশের ইংরেজি শিক্ষা ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আনার স্বপ্ন দেখছেন।