উপমহাদেশের বর্ষীয়ান সঙ্গীতশিল্পী আশা ভোঁসলে (৯২) মারা গেছেন। রোববার (১২ এপ্রিল) মুম্বাইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে বয়স হয়েছিল ৯২। জানা যায়, অনেক দিন ধরেই যে তিনি অসুস্থ ছিলেন তিনি।
এর আগে ভারতীয় গণমাধ্যম সুত্রে জানা গেছে, শনিবার (১১ এপ্রিল) সন্ধ্যাবেলা হঠাৎই ছড়িয়ে পড়ে তার অসুস্থতার খবর। এইদিন সন্ধ্যায় আচমকাই শরীরে অস্বস্তি শুরু হয় শিল্পীর। নিজের অস্বস্তির কথা এক গৃহকর্মীকে জানিয়েছিলেন তিনি। তখনই হৃদরোগে আক্রান্ত হন তিনি। মুম্বাইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে ভর্তি করানো হয় তাকে। ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালের চিকিৎসক প্রতীত সামদানি জানিয়েছিলেন, ৯২ বছর বয়সী এই সংগীতশিল্পীর শনিবার কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট হয়। এরপর দ্রুত তাকে হাসপাতালে আনা হয় এবং হাসপাতালের ইমার্জেন্সি মেডিক্যাল সার্ভিস ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছেন তিনি।
শনিবারই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে আশা ভোঁসলের নাতনি জানাই ভোঁসলে লিখেছেন, ‘অতিরিক্ত ক্লান্তি ও বুকে সংক্রমণের কারণে দাদিকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আমরা আমাদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তার প্রতি সম্মান জানাতে অনুরোধ করছি। তার চিকিৎসা চলছে এবং আশা করছি সবকিছু ভালো হবে। আমরা শিগগিরই ইতিবাচক খবর জানাব।’
কিন্তু শেষরক্ষা হল না। রোববার (১২ এপ্রিল) সেখানেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি ভারতীয় সঙ্গীত জগতের এই কিংবদন্তি। বলা যায়, আশা ভোঁসলের মৃত্যুতে সঙ্গীতদুনিয়ার এক অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটল।
দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি ভারতের বিভিন্ন ভাষায় অজস্র চলচ্চিত্র ও অ্যালবামের জন্য অসংখ্য গান রেকর্ড করেছেন এবং বহু পুরস্কার অর্জন করেছেন। তিনি দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কারে সম্মানিত হয়েছেন, ২০০৮ সালে পেয়েছেন পদ্মভূষণ। এ ছাড়া, ১৯৯৭ সালে গ্র্যামির জন্য মনোনীত হয়েছিলেন তিনি। তার জনপ্রিয় গানগুলির মধ্যে অন্যতম, ‘দিল তো পাগল হ্যায়, ‘এক পরদেশী মেরা দিল লে গয়া’, ‘তুমসে মিলকে’ ইত্যাদি।