ঈদের দ্বিতীয় দিনেও ফাঁকা ঢাকা, কিছুটা বেড়েছে যান চলাচল
১ এপ্রিল ২০২৫ ১৫:২৮ | আপডেট: ১ এপ্রিল ২০২৫ ২০:৫৭
ঢাকা: ঈদের দ্বিতীয় দিনেও রাজধানী ঢাকার পথ-ঘাট ফাঁকা। মূল সড়কের পাশাপাশি গাড়ির চাপ নেই ওলি-গলিতেও। তবে ঈদের দিনের চেয়ে এদিন সড়কে গণপরিবহন চলাচল বেড়েছে। সেই সঙ্গে চলাচল শুরু করেছে মেট্রোরেল। সকালে যাত্রী সংখ্যা কম থাকলেও দুপুরের দিকে বাসের চেয়ে মেট্রোরেলে যাত্রী সংখ্যা দেখা গেছে বেশি। ফাঁকা সড়ক ও যানবাহনে ঘুরে বেড়াতে স্বস্তিতে যাত্রীরাও।
মঙ্গলবার (১ এপ্রিল) দুপুরে মেট্রোরেলের মতিঝিল স্টেশনে দেখা গেছে, টিকিট কাউন্টারে দাড়ানোর স্থান নেই। দীর্ঘ লাইন আর যাত্রী ঠাঁসা প্লাটফর্ম। তবে মেট্রোর কোচগুলোতে বেশিরভাগ যাত্রীই বসে যেতে পেরেছেন। মতিঝিল স্টেশনে মহিলা কামরা ছিলো একেবারেই ফাঁকা। সচিবালয় স্টেশনে কিছু নারী উঠলেও উত্তরা পর্যন্ত সবাই সিটে বসেই মেট্রোতে ভ্রমন করতে পেরেছেন।
যাত্রীরা বলছেন, একদিন মেট্রোরেল বন্ধ থাকায় মনে হচ্ছে অনেক দিন বন্ধ ছিলো। উত্তরা পথের যাত্রী নিলিমা আক্তার বলেন, মেট্রোরেল শুধু যাতায়াত সহজ করেনি, যেন জীবন সহজ করে দিয়েছে। তিনি বলেন, ঈদের দিন মেট্রোরেল বন্ধ থাকায় মিরপুর থেকে এসেছিলাম বাবা বাসা মতিঝিলে। ফাঁকা রাস্তাতেও ১ ঘন্টা সময় লেগেছে আসতে। মিরপুর পথের আরেক যাত্রী লিজা আক্তার বলেন, কাল (ঈদের দিন) বাসে করে ঘুরেছি। আত্মীয়দের বাড়িতে গিয়েছি। কিন্তু এতো বেশি স্টপেজে থামাচ্ছিলো খুব বিরক্ত লেগেছে। আজ মেট্রো চালু হয়েছে বেশ স্বস্তি লাগছে।

ঈদের দ্বিতীয় দিনে যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড়। ছবি: সারাবাংলা
এদিকে রাজধানীর সড়কে গাড়ির সংখ্যা কম থাকায় যানজট নেই। তবে ঈদের দিনের চেয়ে দ্বিতীয় দিন গাড়ির সংখ্যা কিছুটা বেড়েছে। মঙ্গলবার (১ এপ্রিল) রাজধানীর মতিঝিল, যাত্রাবাড়ি, গুলিস্তান, পল্টন, শাহবাগ, মিরপুর রোড, ফার্মগেট, মৌচাক, মালিবাগ, বাড্ডা, বিশ্বরোড, শ্যামলী, আসাদ গেট, কলেজ গেট, মিরপুর এলাকায় দেখা যায়, ঈদের দিন সোমবারের (৩১ মার্চ) তুলনায় যানবাহনের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। সেই সঙ্গে কোথাও কোথাও কিছু যাত্রীর উপস্থিতিও দেখা গেছে। তবে নগরীর মধ্যে চলাচলকারী অধিকাংশ বাসে সিট ফাঁকা দেখা গেছে। বিভিন্ন পয়েন্টে বাসের স্টাফদের যাত্রী খোঁজার চিত্র ছিল চোখে পড়ার মতো। যাত্রী সংকটে এসব পয়েন্টে কিছু সময়ের জন্য বাসগুলোকে অপেক্ষা করতেও দেখা যায়।
মতিঝিলে গাবতলী লিংক পরিবহনের চালকের সঙ্গে কথা হয়। চালক সাইদুর রহমান বলেন, ঈদের দিনের চেয়ে যাত্রী সংখ্যা বেড়েছে কিছুটা। তবে যাত্রীদের জন্য তো একটু অপেক্ষা করতে হয় স্টপেজগুলোতে। বিহঙ্গ পরিবহনের হেল্পার জাহাঙ্গির বলেন, ঈদের দিন ও ঈদের পরের দিন মালিককে জমা টাকা দিতে হয়না। সেজন্য আমরা দুইদিন ছুটি থাকা সত্তেও যাত্রী পরিবহন করি। এতে আমাদের কিছু বাড়তি আয় হয়। যদিও এই দিনগুলোতে যাত্রী সংখ্যা অনেক কম। তবে ফাঁকা সড়কে চলাচল করে স্বস্তি পাচ্ছি।
এদিকে বাসের পাশাপাশি সড়কে রিক্সা, অটোরিকশা সিএনজির সংখ্যাও বেড়েছে আজ। যাত্রীরা নিজ নিজ পছন্দ অনুযায়ী পরিবহনে যাতায়াত করছেন। ফাকা ঢাকায় ঘুরে ভাল লাগার কথা প্রকাশ করেছেন তারা। পরিবার নিয়ে ঘুরতে বেরিয়ে এহসানুল হক বলেন, রিক্সা করেই ভাবছি ঘুরে বেড়াবো। প্রথমে যাবো রমনা পার্কে সেখানে দুপুর পর্যন্ত থাকবো বৌ বাচ্চাদের নিয়ে। তারপর বিকালে যাবো চিড়িয়াখানা। রাতে বাইরে খেয়ে ঘরে ফিরবো। আবার অনেকে মোটরসাইকেলে বন্ধুদের নিয়ে ঘুরতে বেড়িয়েছেন। আবার যাদের ব্যক্তিগত গাড়ি আছে তারা নিজের গাড়িতেই ঘুরতে বেড়িয়েছেন।
সারবাংলা/জেআর/এনজে