গাজায় ১৫ ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্যকর্মীকে হত্যা করেছে ইসরায়েল: জাতিসংঘ
১ এপ্রিল ২০২৫ ১৩:২৪ | আপডেট: ১ এপ্রিল ২০২৫ ২০:৫৭
ইসরায়েলি বাহিনী একে একে ১৫ জন ফিলিস্তিনি প্যারামেডিক ও উদ্ধারকর্মীকে গুলি করে হত্যা করেছে এবং তাদের মরদেহ একটি গণকবরে পুঁতে রেখেছে বলে জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা সংস্থা (ওসিএইচএ)-র বরাতে জানা গেছে। আরও জানা গেছে, নিহতদের মধ্যে অন্তত একজন জাতিসংঘ কর্মীও ছিলেন।
২৩ মার্চ গাজার দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর রাফাহর তেল আল-সুলতান এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ফিলিস্তিনি রেড ক্রিসেন্ট (পিআরসিএস) এবং সিভিল ডিফেন্স কর্মীরা তাদের সহকর্মীদের উদ্ধার করতে গিয়েছিলেন, যাদের আগে গুলি করা হয়েছিল। কিন্তু তাদের অ্যাম্বুলেন্স এবং অন্যান্য যানবাহন ইসরায়েলি বাহিনীর ভারী হামলার শিকার হয়।
রেড ক্রিসেন্টের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, নিহতদের মধ্যে একজনের মরদেহ হাত বাঁধা অবস্থায় পাওয়া গেছে, যা আটক করে হত্যার ইঙ্গিত দেয়।
জাতিসংঘের ফিলিস্তিন বিষয়ক প্রধান জনাথন হুইটল জানিয়েছেন, নিহত চিকিৎসাকর্মীদের মরদেহ একটি গণকবরে পাওয়া গেছে, যেখানে তাদের উদ্ধারকারী অ্যাম্বুলেন্স এবং অন্যান্য যানবাহনও বালির নিচে পুঁতে রাখা হয়েছিল।

গণকবর খোঁজার
জন্য খননকাজ করছেন রেড ক্রিসেন্টের কর্মীরা। ছবি: সংগৃহীত
হুইটল আরও বলেন, ‘আমরা তাদের ইউনিফর্ম পরা অবস্থায়, হাতে গ্লাভসসহ উদ্ধার করছি। তারা জীবন বাঁচাতে এসেছিল, কিন্তু গণকবরে সমাহিত হলো’।
জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনআরডব্লিউএ-এর প্রধান ফিলিপ লাজারিনি জানিয়েছেন, নিহতদের মধ্যে তাদের একজন কর্মীও রয়েছেন।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী (আইডিএফ) এই ঘটনার জন্য দায় স্বীকার না করে জানিয়েছে যে, তাদের সেনারা সন্দেহজনকভাবে এগিয়ে আসা কিছু যানবাহনের ওপর গুলি চালায়, যেগুলোতে কোনো হেডলাইট বা জরুরি সংকেত ছিল না।
অন্যদিকে রেড ক্রিসেন্ট জানিয়েছে, ঘটনাস্থলটি আগে থেকেই নিরাপদ বলে বিবেচিত ছিল এবং সেখানে চলাচলের জন্য কোনো বিশেষ অনুমতির প্রয়োজন ছিল না।
এই ঘটনার আট দিন পর, ইসরায়েলি বাহিনী রাফাহ শহরের বেশিরভাগ অংশে নতুন করে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ জারি করেছে, যা সেখানে আরও বড় সামরিক অভিযানের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
এদিকে, জাতিসংঘ জানিয়েছে, গাজায় ইসরায়েলি অভিযানে ১৮ মাসে কমপক্ষে ১ হাজার ৬০ জন স্বাস্থ্যকর্মী নিহত হয়েছেন। নিরাপত্তার কারণে সংস্থাটি গাজায় তাদের আন্তর্জাতিক কর্মীদের এক-তৃতীয়াংশ কমিয়ে আনছে।
সারাবাংলা/এনজে