Monday 31 Mar 2025
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

কুয়াকাটায় ১০ দোকানে তালা দিলেন বিএনপি নেতার ছেলেরা

ডিস্ট্রিক্ট করসপন্ডেন্ট
২৮ মার্চ ২০২৫ ২৩:৩৯

পটুয়াখালী: জমির মালিকানা দাবি করে ১০টি দোকানে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছে পটুয়াখালীর কুয়াকাটা পৌর বিএনপির সভাপতির দুই ছেলে। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন পৌর বিএনপির অন্যান্য নেতারা।

বৃহস্পতিবার (২৭ মার্চ) সকালে সৈকত সংলগ্ন শুঁটকি মার্কেটে এ ঘটনা ঘটে।

ওই ১০ দোকানি ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় ৬ বছর আগে বেল্লাল মোল্লা নামের এক ব্যক্তির কাছ থেকে তারা দোকানগুলো ভাড়া নেন। এ সময় এক এক দোকানি ৮ থেকে ১০ লাখ টাকা করে বেল্লাল মোল্লাকে অগ্রীম প্রদান করেন। কিন্তু ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের পর ওই জমি তিন ব্যক্তি দাবি করেন। এর মধ্যে কুয়াকাটা পৌর বিএনপির সভাপতি আজিজ মুসুল্লী, রাশেদুল-আফতাব ও বেল্লাল মোল্লা।

আরও জানা যায়, দোকানিরা বসে বিষয়টি সমাধানের জন্য বার বার অনুরোধ জানান। কিন্তু দীর্ঘদিনেও বিষয়টি সমাধান না করে পৌর বিএনপির সভাপতির ছেলে লতাচাপলী ইউনিয়ন যু্বদলের সহ-সাধারণ সম্পাদক রিয়াজ মুসুল্লী তাদের সঙ্গে দোকানিদের নতুন করে ভাড়ার চুক্তিপত্র করার চাপ প্রয়োগ করেন। জমির মালিকানার বিষয়টি সমাধান না হওয়ায় দোকানিরা রিয়াজ মুসুল্লির সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ করতে রাজি হয়নি। পরে বৃহস্পতিবার সকালে রিয়াজ মুসুল্লী ও তার ভাই মহিপুর থানা যুবদলের যুগ্মআহ্বায়ক সালাউদ্দিন মু্সুল্লীসহ তাদের অনুসারীরা দোকানগুলোতে তালা ঝুলিয়ে দেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক দোকানি বলেন, আমরা সবাই বেল্লাল মোল্লার সঙ্গে চুক্তিপত্র করেছি। তাকে আমাদের লাখ লাখ টাকা অগ্রীম দেওয়া। আমরা রাজনীতি বুঝি না। আমাদের সামান্য শুঁটকি বিক্রি করে পেট চলে। কিন্তু গতকাল রিয়াজ মুসুল্লী ও তার ভাইসহ ৮ থেকে ১০জন আমাদের দোকানে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছে। বর্তমানে সে আমাদের হুমকিধামকি দিচ্ছে। দুইদিন পর ঈদ। রোজার একমাস কোনো বিক্রি ছিল না, লোকসানে দিন কেটেছে। ঈদে দোকান খুলতে না পারলে আমাদের ব্যবসা লাটে উঠবে।

বিজ্ঞাপন

এদিকে বেল্লাল মোল্লা বলেন, ১৯৯৬ সালে পটুয়াখালী পৌরসভার কমিশনার মিলন মিয়ার স্ত্রী উম্মে সালমার কাছ থেকে আমি এই জমি ক্রয় করেছি। সে আমাকে সাড়ে ১৬ শতাংশ জমির দলিল দিয়েছে। পরে সেখানে দোকান তুলে ভাড়া দিয়েছি। দোকান তোলার সময় বা পরে ভাড়া দেওয়ার সময় অন্য কেউ এ জমির মালিকানা দাবি করেনি। কিন্তু গতকাল বৃহস্পতিবার হঠাৎ ক্ষমতার অপব্যবহার করে তারা দোকানগুলো দখলে নিয়েছে। এর আগে মুসুল্লী বাড়ির ছেলেরা আমাকে মারধর করেছে। আমি দীর্ঘদিন হাসপাতালে ভর্তি ছিলাম।

জমির মালিকানা দাবি করা রাসেদুল ও আফতাব বলেন, সাবেক লতাচাপলী মৌজার ১১২৭ নম্বর ক্ষতিয়ানে ৫১৭৮/১০০২ এবং ৫১৮০/১০০৩ দাগের মালিক ৭ জন। আরজআলী, ওয়াজেদ আলী, আবদুল আলী, সোমেদ আলী, সেকান্দার আলী, সুলতান শেখ ও চান মিয়া। এসব মালিকের কাছ থেকে ৫ একর ৯৯ শতাংশ জমি লাল মিয়া ১৯৭০ সালে ক্রয় করেন। লাল মিয়ার ওয়ারিশরা ৭ মাস আগে আমাদের নামে আমোক্তারনামা দেয়। জমি বুঝে পাওয়ার জন্য অনেকের দ্বারে দ্বারে ঘুরেছি। বর্তমানে আমাদের জমি বুঝে পাওয়ার জন্য দেওয়ানি মামলা চলমান রয়েছে।

কুয়াকাটা পৌর বিএনপির ১ নম্বর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আলাউদ্দিন ঘরামী বলেন, সভাপতির দুই ছেলে জোরপূর্বক ক্ষমতা খাটিয়ে এ কাজটি করেছে। দোকানে তালা দেওয়ার পর আমি ওখানে গিয়ে রিয়াজের কাছে জানতে চাইলে সে উলটাপালটা কথা বলে এবং দোকানিদের ভয়ভীতি দেখায়। এভাবে তাদের দোকানে তালা মারা কোনোভাবেই ঠিক হয়নি। এটা আসলে দলের জন্য একটা বিপর্যয়।

কুয়াকাটা পৌর বিএনপির সভাপতি আজিজ মুসুল্লী বলেন, আমার ওই জমির বৈধ মালিকানার কাগজপত্র রয়েছে। যারা আমার সঙ্গে ডিট করেছে তাদের দোকান খুলে দেওয়া হয়েছে। বেল্লাল মোল্লা আওয়ামী লীগের ক্ষমতার জোরে ওই জমি দখল করে মার্কেট নির্মাণ করে ভাড়া দিয়েছিল। রাসেদুল-আফতাব ওই জমি দাবি করলেও তাদের দাগ অন্য যায়গায়। আমার দাগের মধ্যে তাদের জমি নেই।

বিজ্ঞাপন

এ বিষয়ে কুয়াকাটা পৌর বিএনপির সভাপতি আজিজ মু্সুল্লীর ছোট ছেলে লতাচাপলী ইউনিয়ন যুবদলের সহ-সাধারণ সম্পাদক রিয়াজ মুসুল্লী বলেন, এ জায়গা আমার বাবার। আমরা বিষয়টি সমাধানের জন্য প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘুরেছি। পরে দোকানিদের আমাদের কাছ থেকে ডিট নিতে বলেছি। কিন্তু কোনো সমাধান না পেয়ে বৃহস্পতিবার দোকানগুলোতে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছি।

কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম বলেন, বিষয়টি খোঁজখবর নিয়ে শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সারাবাংলা/এইচআই

পটুয়াখালী বিএনপি

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর