Monday 31 Mar 2025
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

এবার আনন্দঘন ঈদ করবেন বিএনপি নেতারা

আসাদ জামান, স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট
২৮ মার্চ ২০২৫ ২২:৫৪ | আপডেট: ২৯ মার্চ ২০২৫ ০৪:৪২

বেগম খালেদা জিয়া, তারেক রহমান, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ বিএনপির শীর্ষ নেতারা। ছবি কোলাজ: সারাবাংলা

ঢাকা: ঈদ মানে আনন্দ, ঈদ মানে খুশি। তবে, রাজনীতিবিদদের কাছে এই ঈদ সব সময় খুশির বার্তা নিয়ে আসে না। ক্ষমতায় থাকলে তাদের ঈদ একরকম। ক্ষমতার বাইরে থাকলে আরেক রকম। এ দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে ক্ষমতাসীনদের জন্য সব পথ এবং পাথেয় সহজ, সরল এবং সুন্দর। ক্ষমতার বাইরে থাকা বা বিরোধী দলে থাকা রাজনৈতিক নেতাদের জন্য সব কিছুই কঠিন এবং কণ্টকাকীর্ণ। এই সমীকরণে বিগত ১৫ বছরের ৩০টি ঈদ বিএনপি নেতা-কর্মীদের জন্য সুখকর ছিল না।

বিজ্ঞাপন

দলটির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া পরিবার-পরিজন, আত্মীয়-স্বজনহীন অবস্থায় গুলশানের ভাড়া বাসায়, নাজিমুদ্দিন রোডের কেন্দ্রীয় কারাগারে অথবা পিজি হাসপাতালের প্রিজন সেলে কিংবা এভারকেয়ার হাসপাতলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঈদ করেছেন।

দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান শতাধিক মামলা মাথায় নিয়ে মায়ের স্নেহবঞ্চিত পরিবেশে দেশ থেকে হাজার মাইল দূরে লন্ডনে ঈদ করেছেন। মন খারাপের সেই ঈদগুলোতে ওভারটেলিফোনে খোঁজ-খবর নেওয়া ছাড়া আর কিছুই করার ছিল না। ঈদ ছিল তাদের কাছে নিরানন্দের।

শুধু খালেদা জিয়া আর তারেক রহমান নন, দলের বেশিরভাগ নেতা-কর্মীর ঈদ ছিল নিরানন্দের। নেতাদের বড় একটা অংশ কারাগারে ঈদ করেছেন। অনেকেই ঈদ করেছেন দেশের বাইরে। আর যারা ঢাকা বা গ্রামে ঈদ করেছেন, তাদের মধ্যেও গ্রেফতার আতঙ্ক এবং হয়রানীর ভয় কাজ করেছে। চাঁদরাতে অথবা ঈদ ময়দান থেকে গ্রেফতার হতে হয়েছে বিএনপি নেতা-কর্মী, সমর্থকদের।

কিন্তু এবারের ঈদ বিএনপি নেতাদের জন্য অন্যরকম। ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর সবকিছু যেন জাদুমন্ত্রের ছোঁয়ায় বদলে গেছে। এবার আর কোনো নেতাকে কারাগারে ঈদ করতে হচ্ছে না। মামলামূক্ত অবস্থায় পরিবার-পরিজনসহ লন্ডনে ঈদ উদযাপন করছেন খালেদা জিয়া, তারেক রহমান। দলের স্থায়ী কমিটির সব সদস্যরাও মুক্তি পরিবেশ নিজ নিজ পছন্দ মতো জায়গায় ঈদ উদযাপন করছেন। তাদের মাথায় নেই মামলার বোঝা, মনে নেই গ্রেফতার আতঙ্ক।

বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান জানিয়েছেন, দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার জমিরুদ্দিন সরকার, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমেদ, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, সেলিমা রহমান ও মেজর (অব.) হাফিজউদ্দিন আহমেদ ঢাকাতেই ঈদ করবেন। ঈদের নামাজ শেষে জিয়াউর রহমানের কবর জিয়ারত করবেন তারা।

বিজ্ঞাপন

বিকেলে প্রধান উপদেষ্টার ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তার সঙ্গে স্থায়ী কমিটির দুয়েকজন সদস্য থাকতে পারেন।

স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. মঈন খান এবং ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন এবার ঈদ করবেন লন্ডনে। ঈদের দিন দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে তাদের সাক্ষাতের সম্ভবনা রয়েছে। ঈদের পর খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেশে ফিরবেন ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন। ড. মঈন ফিরতে পারেন আগেভাগেই।

দলের ভাইস চেয়ারম্যান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্যবৃন্দ, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব, যুগ্ম মহাসচিব, সাংগঠনিক সম্পাদক, সম্পাদক মণ্ডলীর সদস্য এবং নির্বাহী সদস্যদের বড় একটা অংশ এবার ঈদ করবেন নিজ নিজ নির্বাচনি এলাকায়। ঈদের নামাজ শেষে এলাকার সাধারণ মানুষ ও ভোটাদের সঙ্গে কুশলাদি বিনিময় করবেন। ভোট সামনে রেখে গণসংযোগের কাজওটি সেরে রাখবেন তারা।

জুলাই গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী পরিস্থিতিতে ‘জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন’ এবং ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর ব্যানারে ব্যাপক ত্রাণ তৎপরতা চালাচ্ছে বিএনপি। অভ্যুত্থানে আহত এবং নিহতদের পরিবারকে ঈদ উপহার, ঈদ শুভেচ্ছা বার্তা প্রদান কর্মসূচি অব্যাহত রেখেছে সংগঠন দুটি। এসব সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত বিএনপি নেতারা নিজ নিজ এলাকায় ঈদ করবেন। কেউ কেউ আবার ঈদ করবেন ঢাকায়। সব মিলিয়ে নিরানন্দ ঈদ পেছনে ফেলে এবার আনন্দঘন ঈদ উদযাপন করবেন বিএনপি নেতারা।

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সারাবাংলাকে বলেন, ‘ডেফিনিটলি আমাদের ঈদ এবার ভালো যাবে। তবে সম্পূর্ণ স্বস্তিদায়ক হবে না। কারণ, দেশ তো স্থিতিশীল নয়। সব কিছুই তো দেশকে নিয়ে। আমাদের সদাশয় সরকার তো পরিষ্কার করে কিছু বলছে না। তারপরও ঈদটা ভালো কাটার চেষ্টা থাকবে। দেশবাসী আনন্দঘন পরিবেশে ঈদ উদযাপন করতে পারবে— এটাই আমাদের প্রত্যাশা।’

সারাবাংলা/এজেড/এইচআই

আনন্দঘন ঈদ ঈদ তারেক রহমান বিএনপি বেগম খালেদা জিয়া মির্জা আব্বাস মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর