প্রশিক্ষণে সহায়তা ও প্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগে ইইউ’র প্রতি আহ্বান
২৪ মার্চ ২০২৫ ১৬:৫০ | আপডেট: ২৪ মার্চ ২০২৫ ১৮:২৪
রোববার রাজধানীর ডাক ভবনে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব এর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন ইইউ রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার – (ছবি : সংগৃহীত )
ঢাকা: তথ্যপ্রযুক্তি খাতে দক্ষতা বাড়াতে কর্মীদের প্রশিক্ষণে সহায়তা প্রদান এবং প্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগের জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ভুক্ত দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব।
রোববার (২৩ মার্চ) রাজধানীর ডাক ভবনে ইইউ রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার এর সঙ্গে বৈঠককালে তিনি এ আহ্বান জানান। সোমবার (২৪ মার্চ) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে৷
মাইকেল মিলার নীতিকাঠামো, ইইউর বিনিয়োগ, প্রকল্পে অর্থায়নসহ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মীদের দক্ষতা বৃদ্ধির বিষয়ে কথা বলেন।
বৈঠকে মাইকেল মিলার বলেন, ইইউ বাংলাদেশের অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য উন্নয়ন অংশীদার। তাই ইইউ বাংলাদেশে বিনিয়োগের জন্য প্রস্তুত রয়েছে। তবে বিনিয়োগ উপযোগী নীতিকাঠামো প্রণয়ন এবং প্রকল্পে অর্থায়নসহ কর্মীদের দক্ষতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
এছাড়া
বৈঠকে ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব সরকারের বিভিন্ন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে বলেন, দেশে অনেক সরকারি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী ও সংস্কার করতে পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ অথবা জি-টু-জি পদ্ধতির বিনিয়োগ চাই। আমরা বিনিয়োগের নতুন পথ খুলতে চাই।
তিনি বলেন, আমরা ডিজিটাল রূপান্তরের মাস্টার প্ল্যান এবং আইসিটি রোডম্যাপের খসড়া সংস্করণ প্রণয়ন করেছি এবং অনুরূপ রোডম্যাপ প্রতিটি রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানে উপস্থাপন করা হবে। আমরা ১০টি স্তম্ভকে লক্ষ্য ধরে এগুচ্ছি। সেগুলোর মধ্যে রয়েছে- সরকারি সেবাসমূহের ডিজিটালাইজেশন, বিকেন্দ্রীকরণ ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি। ডেটা এক্সচেঞ্জ এবং ডেটা গভর্নেন্স সম্পর্কে আমাদের খুব বড় দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে, আমরা ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্টে গুরুত্ব দিচ্ছি। এর বাইরে সাইবার নিরাপত্তা অধ্যাদেশ এবং ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষা আইন নিয়েও কাজ চলছে।
রাষ্ট্রদূত মিলার ডিজিটাল রূপান্তরের কৌশল সম্পর্কে জানতে চাইলে বিশেষ সহকারী বলেন, ডিজিটাল রূপান্তরের কৌশল এর মাস্টার প্ল্যান প্রণয়নে স্টেক হোল্ডারদের পরামর্শ নেওয়া হবে। আশা করছি এই বছরের মাঝামাঝি সময়ে এটি একটি রূপ পাবে।
ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব বলেন, ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষা আইন নিয়ে আরও কিছুদিন কাজ চলবে। এরপর আমরা চারটি স্তরে জনসাধারণের মতামত গ্রহণ করব। প্রথমত, আমরা ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের সাথে কথা বলব; এরপর স্থানীয় ব্যবসায়ী প্রতিনিধি মানবাধিকার সংস্থা ও গণমাধ্যম কর্মী এবং সর্বশেষ আন্ত মন্ত্রণালয়ের পরামর্শ ও মতামত গ্রহণ করা হবে। আইসিটি এবং সাইবার সম্পদগুলোর মানোন্নয়ন আমাদের লক্ষ্য। পাশাপাশি আমরা শুধুমাত্র সরকারি সংস্থার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে সকল আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এবং সরকারি কর্মচারীদের অন্তর্ভুক্ত করতে চাই। এর পাশাপাশি, আমরা সিআইআই (ক্রিটিক্যাল ইনফরমেশন ইনফ্রাস্ট্রাকচার) এর উপর ফোকাস করছি। আমরা কর্মীদের দক্ষতা বৃদ্ধির দিকে গুরুত্বারোপ করছি। এক্ষেত্রে ইইউ এবং ই গভর্নেন্স টিমের কাছ থেকে প্রশিক্ষণের প্রস্তাব প্রত্যাশা করছি।
সারাবাংলা/ইএইচটি/আরএস