৯ মাস পর পৃথিবীতে ফিরে এলেন ২ মহাকাশচারী বুচ ও সুনি
১৯ মার্চ ২০২৫ ১৪:২৬ | আপডেট: ১৯ মার্চ ২০২৫ ১৫:৫৯
নয় মাস মহাকাশে থাকার পর নাসার মহাকাশচারী বুচ উইলমোর ও সুনি উইলিয়ামস অবশেষে পৃথিবীতে ফিরে এসেছেন।
বুধবার (১৯ মার্চ) সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনটিতে বলা হয়, বুধবার ভোর ৩টা ২৭ মিনিটে তাদের বহনকারী স্পেসএক্সের মহাকাশযান ফ্লোরিডার সমুদ্রে অবতরণ করেছে।
নাসা জানিয়েছে, মহাকাশ থেকে পৃথিবী পর্যন্ত এই দুই নভোচারীর প্রত্যাবর্তন নিরাপদে হয়েছে। তাদের সঙ্গে একই মহাকাশযানে ফিরেছেন নাসার নিক হগ ও রুশ নভোচরী আলেকজান্ডার গর্বুনভ।
গত বছরের জুন মাসে সুনীতারা মহাকাশের উদ্দেশে পাড়ি দিয়েছিলেন। মঙ্গলবার সকাল ১০টা ৩৫ মিনিটে তাদের নিয়ে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন (আইএসএস) ছাড়ে স্পেসএক্সের ড্রাগন নামের একটি যান।
বুধবার (১৯ মার্চ) আটলান্টিক মহাসাগরের ফ্লোরিডা উপকূলে মহাকাশচারীরা নিরাপদে অবতরণ করেন। তাদের উদ্ধারে এগিয়ে যায় মার্কিন নৌবাহিনীর বোট। এর পরে মডিউলসহ নভোচারীদের জাহাজের কাছে নিয়ে আসে নৌ বাহিনী। হাইড্রোলিক পদ্ধতিতে তাদের জাহাজে তোলা হয়। সেখানে ড্রাগন ক্যাপসুলের দরজা খোলার পরে প্রথমে বেরিয়ে আসেন নিক হগ।
গেল বছরের ৬ জুন এক সপ্তাহের মিশনে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে যান বুচ ও সুনিতা। কিন্তু বোয়িংয়ের যে ক্যাপসুলে তারা গিয়েছিলেন, সেটার স্টারলাইনারে ত্রুটি দেখা দিলে সময়মতো পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনা যায়নি। তাদের স্পেসএক্স ক্যাপসুল পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের মধ্য দিয়ে দ্রুত প্রবেশ করেছে। তারপরে চারটি প্যারাসুট খোলা হয়। যাতে তারা ফ্লোরিডা উপকূলের মৃদু স্প্ল্যাশডাউনে পৌঁছে যায়।
পৃথিবীতে ফিরে এলেও বর্তমানে তারা নিজেদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে পারবেন না। তাদের এখন ক্রু-কোয়ার্টারে রাখা হবে। সেখানে তাদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হবে।
সোমবার (১৭ মার্চ) নাসার পক্ষ থেকে দুই নভোচারীকে ফিরিয়ে আনার তারিখ জানানো হয়। তাদের ফেরাতে নাসা ও স্পেসএক্স ‘ক্রু–৯ মিশন’ পরিচালনা করে। মিশনের অংশ হিসেবে গত শুক্রবার গ্রিনিচ মান সময় রাত ১১টা ৩ মিনিটে স্পেসএক্সের ক্রু ড্রাগন মহাকাশযান ফ্লোরিডায় নাসার কেনেডি মহাকাশকেন্দ্র থেকে যাত্রা শুরু করে। ২৯ ঘণ্টা পর গত রোববার ভোর ৪টা ৪ মিনিটের দিকে এটি আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে পৌঁছায়।
মহাকাশচারীদের অবতরণের পর তাৎক্ষণিক এক সংবাদ সম্মেলনে নাসার উপসহযোগী প্রশাসক জোয়েল মনটালবানো ও কার্যক্রম সমন্বয় ব্যবস্থাপক বিল স্পিচ বলেন, ‘এই মহাকাশচারীরা আমাদের গর্ব। ৯ মাসে ৯০০ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে প্রায় ১৫০টি গবেষণা করেছেন তারা। তাদের ফিরে আসায় আমরা খুব খুশি।’
সারাবাংলা/এমপি