বঙ্গবন্ধু-প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে কটূক্তি: জাবি ছাত্রের ৭ বছর জেল
৬ জুন ২০২২ ১৮:১১ | আপডেট: ৬ জুন ২০২২ ১৮:১২
ঢাকা: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সম্পর্কে কুরুচিপূর্ণ বক্তব্যের অভিযোগ তথ্য ও প্রযুক্তি আইনে দায়ের করা মামলায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শামসুল আলম বাবুর সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।
সোমবার (৬ জুন) ঢাকার সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক আসসামছ জগলুল হোসেন আসামির উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন।
এদিন জামিনে থাকা আসামি বাবু আদালতে উপস্থিত ছিলেন। তার উপস্থিতিতে বিচারক রায় ঘোষণা করেন। রায় শেষে আদালত সাজা পরোয়ানা জারি করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
বিচারক রায়ে উল্লেখ করেন, আসামির বয়স ২৩ বছর। আসামির স্বল্প বয়স বিবেচনায় তাকে তথ্য ও প্রযুক্তি আইন ২০০৬ (সংশোধিত/২০১৩) এর ৫৭ ধারায় ন্যূনতম সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড প্রদানের সিদ্ধান্ত গৃহীত হলো।
মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, ২০১৫ সালের ৪ আগস্ট জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনৈতিক বিভাগের ৩৮তম ব্যাচের শিক্ষার্থী আল আমিন সেতু বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী বইয়ের উপর একটি কলাম পত্রিকায় প্রকাশ করে।
ওই লেখাটি একই বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ৩৮তম ব্যাচের ছাত্র মোরশেদুর আকন্দ ফেসবুকে পোস্ট করেন। ওই পোস্টের প্রতিক্রিয়ায় শামসুল আলম বাবু তার ‘মো: কবির মামু’ নামক ফেসবুক আইডি থেকে একটি মন্তব্য করেন। শামসুল আলম বাবু তার মন্তব্যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সম্পর্কে অত্যন্ত কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য দেন।
পরবর্তী সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভের সঞ্চার হয় এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হয়। আল আমিন সেতু লিখিতভাবে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে অবগত করলে শামসুল আলম বাবুকে আটক করা হয়।
২০১৫ সালের ৫ আগস্ট আশুলিয়া থানায় শামসুল আলম বাবুর বিরুদ্ধে তথ্য ও প্রযুক্তি আইনে মামলাটি দায়ের করা হয়। ২০১৬ সালের ২৬ এপ্রিল তদন্ত শেষে বাবুর বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করা হয়।
২০১৬ সালের ২১ জুলাই ট্রাইব্যুনাল আসামির অব্যাহতির আবেদন করে করে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর আদেশ দেন। বিচার চলাকালীন বিভিন্ন সময়ে নয় জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করেন ট্রাইব্যুনাল।
সারাবাংলা/এআই/পিটিএম